ঘটনাবহুল ইউপি নির্বাচন শেষ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,:শেষ হয়েছে ঘটনাবহুল নবম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এ--- নির্বাচনে অন্তত ১০৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একইভাবে নির্বাচনী সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ৬ ধাপে নবম ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবার ভোট হয়েছে ৩ হাজার ৯৬৮টি ইউপিতে। এর আগে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্তর ইউপিতে নির্দলীয় নির্বাচন হতো। আর নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা এ নির্বচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদিকে আজ শনিবার শেষ পর্বের ৬৯৮টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বিকেল ৪ টায়। এখন চলছে ভোট গণনা। বাকী আছে শুধু ফলাফল ঘোষণার। রাতে ফলাফল ঘোষণার মধ্যদিয়ে এবারের ইউপি নির্বাচন শেষ হবে। আগের ৫ দফার মতো আজ ষষ্ঠ পর্বেও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী, ময়মনসিংহ ও নোয়াখালীতে ১ জন করে নিহত হয়।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে সংঘাতের পাশাপাশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ারও রেকর্ড হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের ৯টি ইউপি নির্বাচনের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ ২২০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সবাই সরকারদলীয় প্রার্থী। এর আগে গত ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচনে ১০০ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া এ নির্বাচনে বিএনপি সবকটি ইউপিতে প্রার্থী দিতে পারেনি। ৫৫৪টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিলেন না।
এর আগে দেশে ৮ বার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রতিবেদনভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ জন মানুষ মারা গিয়েছিল। ওই সময় স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদ ছিলেন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৩ সালের নির্বাচনেও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ডেমোক্রেসিওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫১ দিনব্যাপী ওই নির্বাচনে ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছিল। অবশ্য কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৭২ বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংঘাতপূর্ণ এ নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিশনের সিনিয়র এক কর্মকর্তারা জানন, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সবচেয়ে কম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। যদিও ওই নির্বাচনে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনভেদে ২৭ থেকে ৩৪ জন মারা গিয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অন্তত ১৮টি দল অংশ গ্রহণ করেছে। তবে এর মেধ্য মূল লড়াই হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে। ফেব্রুয়ারিতে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী সহিংসতায় শনিবার পর্যন্ত ১০৬ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। ইসির হিসাবে প্রথম ধাপে ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭৭ শতাংশ ও পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
প্রসঙ্গত এর আগের ৫ ধাপে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা ২ হাজার ২৬৭ ইউপিতে ও ধানের শীষের প্রার্থীরা ৩১০ ইউপিতে জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৬৯৬ জন। চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২০ জনেরও বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর বাইরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ও রাঙামাটির কাউখালীর ফটিকছড়িতে স্বতন্ত্র ২ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


এ বিভাগের আরো খবর...
আজকের রাশিফল, ২৪ জুন, ২০১৬, শুক্রবার আজকের রাশিফল, ২৪ জুন, ২০১৬, শুক্রবার
হজ ফ্লাইট শুরু ৪ আগস্ট হজ ফ্লাইট শুরু ৪ আগস্ট
ছয় দফার পাঁচ দশক : অজয় দাশগুপ্ত ছয় দফার পাঁচ দশক : অজয় দাশগুপ্ত
এবার ঝিনাইদহে পুরোহিতকে গলাকেটে হত্যা এবার ঝিনাইদহে পুরোহিতকে গলাকেটে হত্যা
৬টি দফার বাঁধনেই বাংলাদেশ ৬টি দফার বাঁধনেই বাংলাদেশ
এ এক অন্য জয়া! এ এক অন্য জয়া!
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের কাজে হতাশ উচ্চ আদালত! ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের কাজে হতাশ উচ্চ আদালত!
প্রথম রমজানে এতিমদের সঙ্গে ইফতার করবেন খালেদা প্রথম রমজানে এতিমদের সঙ্গে ইফতার করবেন খালেদা
দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ, মঙ্গলবার থেকে রোজা দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ, মঙ্গলবার থেকে রোজা
মা হতে অনিচ্ছুক নারীরা ‘অসম্পূর্ণ’: এরদোয়ান মা হতে অনিচ্ছুক নারীরা ‘অসম্পূর্ণ’: এরদোয়ান

ঘটনাবহুল ইউপি নির্বাচন শেষ
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)